অনেক সরকারি কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলতে চায়: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেছেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য শুধু আর্থিক বিনিয়োগ নয় মেধা ও সাহসের প্রয়োগ প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাত্র সাড়ে তিন বছরের সরকার অবিশ্বাস্যভাবে সে প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন। সমসাময়িক বিশ্বেও তা বিরল। সে ধারা থেকে আমরা অনেক বছর বিচ্যুত থাকার পর আবার টেকসই উন্নয়নের পথে হাঁটছি। কিন্তু এখনও অনেক সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সৎ সাহসের অভাব রয়েছে। তারা সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলতে চায়। এখন অর্থের সংকট নেই। দক্ষ জনবল তৈরি করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

বৃহস্পতিবার এক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘বঙ্গবন্ধু : জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ অনলাইন সেমিনারের আয়োজন করে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) এবং বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিপ্পা)।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের এবং আমদানির সব পথ খোলা রাখতে চায় সরকার। দেশের কয়লা উত্তোলন করলে তার প্রভাব কী হবে তা খতিয়ে দেখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রথম হচ্ছে মানুষ, কৃষি ও পরিবেশ। তিনি আমাকে বলেছেন, মানুষের ক্ষতি না করে যদি কিছু করতে পারো তবে দেখো। এইযে এলএনজি আমদানি করছি, এটা নিয়েও অনেক কথা। আমাদের গ্যাস শেষ হয়ে যাচ্ছে। শিল্প বাড়ছে সেখানে গ্যাস দিতে হবে। যতো আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়বে ততো দুর্নীতি কমবে। যে দেশে যতো প্রযুক্তির ব্যবহার করেছে। সেই দেশ দ্রুত এগিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, আগে বিদেশ থেকে তেল আসার পর বড় জাহাজ থেকে খালাশ করতে ১২ দিন লাগতো। এখন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তেল আসবে। এ বছরেই মধ্যে কাজ শেষ হচ্ছে। এতে ১ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। বড় জাহাজ থেকে ছোটো জাহাজে আনতে লোকসান হয়। ভেজাল হয় এটাও বন্ধ হয়ে যাবে। এটাও কিন্তু জ্বালানি নিরাপত্তার অংশ। পতেঙ্গায় টার্মিনাল করছি, বাঘাবাড়িতে টার্মিনাল করছি। পাইপলাইনে তেল আসবে নারায়ণগঞ্জে, সেখান থেকে এয়ারপোর্টে। অনেকে বলেন সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে। কিন্তু ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতে ৩শ’ একর জমি লাগে। কিন্তু আমাদের উর্বর কৃষি জমি এ কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তা খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে।

তিনি বলেন, সুশাসনের জন্য আমাদের নজর রয়েছে। আগামী নির্বাচনের আগে এক-দেড়কোটি প্রিপেইড মিটার বসবে গ্রাহকদের ঘরে। তখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিল নিতে হবে না। করোনায় বিল না দেওয়ায় বিষয়টি সাপে বর হয়েছে। এখন বিতরণ কোম্পানিগুলো প্রিপেইড মিটারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

বঙ্গবন্ধুর সাবেক একান্ত সচিব বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে শিল্পায়ন ও বিদ্যুৎ জ্বালানির কথা। ৪৩ অনুচ্ছেদে জ্বালানি নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে। প্রথম বাজেটে ১২ ভাগ বিনিয়োগ রাখা হয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে। কাউন্টার পার্ট ফান্ড থেকে পল্লী বিদ্যুৎ করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু দেখে যেতে পারেন নি। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের সেই দিনটি ছিল শনিবার। বঙ্গবন্ধু সপ্তাহে সাত দিনই অফিস করতেন। সেদিন অফিসে এসে বললেন আজ বাঙালির অন্যতম মুক্তির সনদে সই করবো।

তার পরে সেই ফাইলে সই করেন। গ্যাস ক্ষেত্র ৫টি কিন্তু সহজে দিতে চায়নি বহুজাতিক কোম্পানি শেল। বঙ্গবন্ধু তাকে বলেছিলেন দেখো তোমরা যদি না বিক্রি করো। তাহলে নতুন আইনে আমরা অধিগ্রহণ করতে বাধ্য হবো। পরে শেল বাধ্য হয়েছিলো। ইরানে তখন অধিগ্রহণের ঘটনা ঘটেছিল। শেল হয়তো সেটাই ভয় পেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এ বিষয়টি জড়িত থাকলে আমি খুবই দুঃখ পাবো।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠকালে এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিনের সম্পাদক মোল্লা আমজাদ হোসেন বলেন, জ্বালানি খাতে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন জরুরি। সরকারের কাছে সুযোগ থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হচ্ছে না। প্রাতিষ্ঠানিক পারফরমেন্স খুবই দুর্বল।

এফইআরবি’র চেয়ারম্যান অরুণ কর্মকারের সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী পরিচালক শামীম জাহাঙ্গীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাপেক্স’র সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমেদ ফারুক চিশতী, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাবেক চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ এবং বিপ্পা’র প্রেসিডেন্ট ইমরান করিম।

x