সবকিছু তো খারাপের দিকে যাচ্ছে

ঢালিউডের একসময়ের বরেণ্য অভিনেত্রী শবনম। দেড় দশকের বেশি সময় সিনেমায় নেই তিনি। সর্বশেষ অভিনয় করেছেন ‘আম্মাজান’ সিনেমায়। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কোনো অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা যায় না। গতকাল ছিল তাঁর জন্মদিন। চলচ্চিত্র নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানালেন এই শিল্পী।
শুভ জন্মদিন

ধন্যবাদ।
কত বছরে পড়লেন?
’৭৩ শেষ করে ’৭৪–এ। আমার জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৭ আগস্ট।
কেমন কাটল করোনাকালের জন্মদিন?
ঘরেই কাটালাম। খুবই খারাপ লাগছে। এ রকম দিন তো কখনো দেখিনি, দেখতে হবে তা–ও ভাবিনি। করোনার শুরুর দিকের পরিস্থিতি নিয়ে খুব কষ্ট পেতাম। এখন অবশ্য সয়ে গেছে।

জন্মদিন বিষয়টা কেমন?
একটা বয়স ছিল, যখন জন্মদিন বেশ উপভোগ করতাম। এখন আর ভালো লাগে না। জন্মদিন এলে মনে হয়, মৃত্যুর কাছাকাছি চলে যাচ্ছি।

জীবনের সেরা জন্মদিন কোনটি?
এটা বলা মুশকিল। এতটা বছর কাটিয়ে দিয়েছি, সেরা কোনটা মনে নেই। আমার একমাত্র ছেলেও ছোটবেলা থেকে ছিল লন্ডনে। রবিন ঘোষ সাহেবও ব্যস্ত ছিলেন মিউজিক নিয়ে। তিনি আবার ছিলেন ভুলোমনা। ছেলে কাছে থাকলে হয়তো সারপ্রাইজড হতাম। আমি অবশ্য জন্মদিন খুব একটা পালনও করতাম না।

চলচ্চিত্রে আসার পরও করতেন না?
না, কখনোই করিনি। এখন তো আরও না। তবে আগে জন্মদিন এলে মনে মনে খুশি হতাম, উপহার পাব বলে।
কখনো কি পরিবারের কাছ থেকে উপহার পেয়ে সারপ্রাইজড হয়েছেন?

ছেলেকে নিয়ে একবার মার্কেটে গিয়েছিলাম। সোনার চুড়ি পছন্দ করেছিলাম। কিন্তু সেদিন কেনা হয়নি। ছেলে বলছিল, মাম্মা, নাও। কিন্তু নিইনি। জন্মদিনের দিন সোনার চুড়িগুলো কিনে এনে সারপ্রাইজ দিয়েছিল সে। আমার পছন্দ হয়েছিল জেনে বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়েই কিনেছিল। ছেলের বয়স তখন ১৩ কি ১৪ বছর।

যে চলচ্চিত্র আপনাকে ঝর্ণা বসাক থেকে শবনম বানিয়েছে, সেই চলচ্চিত্র থেকে আপনি অনেক বছর ধরে দূরে আছেন। আপনাদের সময়ের এফডিসিকে মনে পড়ে?
অনেক মনে পড়ে। এফডিসিতে ঢুকতে পারি না দুঃখে। কান্না আসে এফডিসির পরিবেশের কথা শুনলে। সেখানে এখন সিনেমার কাজ হয় না, খালি সমিতি আর সমিতির নানা অনুষ্ঠান। সবকিছু তো খারাপের দিকে যাচ্ছে। কাজেরও কোনো পরিবেশ সেভাবে নেই। এই ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে হলে কাজ বাড়াতে হবে। এফডিসির বেহাল এই অবস্থা মানতে পারিনি। যে এফডিসি আমাদের এত কিছু দিয়েছে, খাবার দিয়েছে, কত মানুষের রুটিরুজি এখান থেকে, সেই এফডিসির এই হাল সত্যিই কষ্টের।
এখনকার ছবি দেখেন। কোনো নায়ক-নায়িকার কথা মনে পড়ে?

এখন কারা কাজ করছে, তা–ও তো জানি না। কোনো অনুষ্ঠানেও যাই না। সিনেমা দেখলেও টেলিভিশনে। হলে আর যাওয়া হয় না। এখন যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের মধ্যে শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের কথা জানি।

আবার ডাক পেলে অভিনয় করবেন?
একজন শিল্পী মরার আগপর্যন্ত কাজ করতে চায়। যে মানেপ্রাণে আর্টিস্ট, সে অভিনয় ছাড়া বাঁচতে পারে না। যতই ১৫০-২০০ ছবিতে অভিনয় করি না কেন, অভিনয়ের ক্ষুধা থেকেই যায়। ঘরে বসে মরার চেয়ে কাজ করে মরা ভালো।
সময় কাটান কীভাবে?

পরিবার, শ্বশুরবাড়ি, আত্মীয়স্বজন নিয়ে ভালোই আছি। বাসায় থাকি, টেলিভিশন দেখি, গান শুনি, রান্না করি। জীবন তো চলেই যায়। নিজের পুরোনো ছবিগুলো দেখি। রবিনের গান অনেক শুনি। আলাউদ্দীন আলী, খান আতাউর রহমানের গানও শুনি। স্মৃতি নিয়েই আমি আছি। কাউকে বিরক্ত করছি না।