আরেক দফা বাড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি!

বিশ্বজুড়ে ক’রোনা মহামা’রি শুরুর পর গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম ক’রোনাভা’ইরাসে আ’ক্রান্ত রো’গী শনা’ক্ত হয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে এবং সং’ক্রমণ এড়াতে ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কয়েক দফায় ছুটি বাড়িয়ে তা করা হয়েছে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

ক’রোনার কারণে পাঁচ মাসের অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অবশ্য কিছু প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ও সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদান চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ক’রোনা সং’ক্রমণ এখনো বেশি থাকায় ৩১ আগস্টের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে মত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরাও।

দেশের বর্তমান ক’রোনাভা’ইরাসের সং’ক্রমণের পরিসংখ্যানের চিত্র বিবেচনা করে এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলার আহবান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরা। সে আলোকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও একদফা বাড়তে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা ইঙ্গিত দিয়েছেন। খোদ শিক্ষামন্ত্রীও এ নিয়ে কথা বলেছেন। ফলে আটকে থাকা এইচএসসি পরীক্ষাও সহসাই হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ক’রোনাভা’ইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে উদ্ভুত পরিবেশ অনুকূলে এলেই সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথা চিন্তা করবে। পরীক্ষা নেয়ার মত অনুকুল পরিবেশ তৈরি হলে ১৫ দিন সময় দিয়ে স্থগিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে তার ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া হবে, যাতে পরীক্ষার্থীরাও জেনে প্রস্তুতি নিতে পারে। অনুকূল পরিবেশ হলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথা চিন্তা করবে সরকার জানান শিক্ষামন্ত্রী।
ডা. দীপু মনি বলেন, ‘আপনারা জানেন দেশের এই ক’রোনা পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি আপনারা সবাই অবহিত। প্রায় ১৪ লাখ এইচএসসি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা নেওয়ার জন্য আম’রা প্রস্তুত ছিলাম, এখনো আছি। ১৪ লাখ পরীক্ষার্থীর সঙ্গে আরও কয়েক লাখ লোকবল জড়িত। এত সংখ্যক মানুষকে আম’রা ঝুঁ’কির মধ্যে ফেলতে পারি না।

গত এপ্রিলে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও ক’রোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে দেশের সবকিছু প্রায় স্বাভাবিক হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খুলবে এবং পরীক্ষাগুলোর কী হবে, তা জানার প্রবল আগ্রহ রয়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

এদিকে সরকারের শীর্ষমহল থেকে ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়ে রাখা হয়েছে, ক’রোনার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা শুরু হলে সবার আগে খুলবে বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনও খোলার পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) মনে করছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় খুললেও সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ছাড়া খোলা সম্ভব হবে না বলে ইউজিসি সূত্র জানিয়েছে।

গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্লাসরুমে হয়তো সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু আবাসিক হলে তা সম্ভব নয়। সেখানে একজনের ক’রোনা হলে আরও দশজন আ’ক্রান্ত হতে পারে। এ জন্য পরিস্থিতি আরো পর্যবেক্ষণ করতে চান বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, ইউজিসির অবস্থান এবং শিক্ষাবিদদের মতামতের আলোকে ৩১ আগস্টের পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না বলে তারা মনে করছেন। সেপ্টেম্বর মাসও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা মোটামুটি নিশ্চিত বলে মত তাদের।

এছাড়া অভিভাবকদের সিংহভাগই তাদের সন্তানদের এখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে প্রস্তুত নন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তারা মনে করছেন, ক’রোনা সং’ক্রমণ পরিস্থিতি এখনো স্কুল খোলার পক্ষে সহায়ক নয়। তারা তাদের সন্তানকে এখনই স্কুলে পাঠিয়ে ঝুঁ’কি নিতে চাননা বলে জানিয়েছেন।

অবশ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি নিয়ে কবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনো জানা যায়নি। তবে আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আর মাত্র ১০ দিন ছুটি অবশিষ্ট রয়েছে। সে কারণে চলতি সপ্তাহেই ছুটির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।