অবশেষে সিন’হা হ’ত্যা’র পরিষ্কার চিত্র পেয়েছে র‍্যাব

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হ’ত্যা’র ঘটনা সম্পর্কে পরিষ্কার চিত্র পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার মুখপাত্র লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ। তিনি বলেছেন, গ্রে’ফ’তা’র’কৃত আ’সামি’দের রি’মান্ড জিজ্ঞাসাবাদ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, আলামতসহ সংশ্লিষ্ট সবকিছু নিয়ে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

রিমান্ডে থাকা আ’সামি’রা চাঞ্চ’ল্য’কর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। চারজন পুলিশ সদস্য ও তিন স্বাক্ষীর রিমান্ড শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার পর পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের রি’মা’ন্ডে আনার প্রয়োজন মনে করলে পুনরায় তাদের রি’মা’ন্ডে আনার জন্য আবেদন হবে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে তদন্তের কার্যক্রম আরো এগিয়ে নেওয়া হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের দেওয়া তথ্য আপাতত প্রকাশ করা যাবে না।

গতকাল বুধবার রাতে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। তিনি বলেন, হ’ত্যা মা’মলা’টি অত্যন্ত স্প’র্শকা’তর, গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। তাই অত্যন্ত সতকর্তা, পেশাদারিত্ব ও গুরুত্বের সাথে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং এই কার্যক্রম ইতিবাচকভাবে এগুচ্ছে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছে, সকল ধরনের খবর, ফোনালাপ তদন্তকারী কর্মকর্তা আমলে এনেছেন।

তিনি আরো বলেন, এই হ’ত্যা মা’মলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও নন্দদুলাল রক্ষিতসহ গ্রে’ফ’তা’রকৃত আসামিদের রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, আলামতসহ সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক বিষয় নিয়ে এই মামলারটি তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ২৫ তারিখ থেকে থেকে ৬ আগস্ট তারিখ তারিখ পর্যন্ত সময়ের টেকনাফ থানার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত সেসব উপকরণ তদন্তকারী কর্মকর্তার হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে টেকনাফ থানা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হলে কারিগরি ত্রু’টির কারণে ফুটেজ উ’দ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে গু’লি’তে নি’হত হন মেজর (অব.) সিনহা মো: রাশেদ। এ সময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাতকে আ’টক করে কারাগারে পাঠায়। পরে রিসোর্ট থেকে শিপ্রাকে আ’টক করা হয়। দুজনই বর্তমানে জামিনে মুক্ত।

ওই ঘটনায় ওসি প্রদীপসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য এবং পুলিশের দা’য়ের করা মা’মলার তিন সাক্ষী প্রথমে কক্সবাজার জেলা কারাগার ও পরে আদালতের সাতদিনের রি’মা’ন্ড আদেশের প্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব হেফাজতে রয়েছে। সর্বশেষ, বাংলাদেশ আর্মড পুলিশের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে আটকের আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রি’মান্ড আবেদন করে তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব। কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ প্রত্যেক আসামিকে সাতদিনের রিমান্ড মন্জুর করেন।