বগুড়ায় ৯৫ শতাংশ জমিতে আমন রোপণ সম্পন্ন

বগুড়া জেলার বন্যা কবলিত অঞ্চল বাদে আমন চারা রোপণ প্রায় শেষের দিকে। প্রায় ৯৫ শতাংশ জমিতে আমন রোপণ শেষ করেছে কৃষকেরা। শুধু জেলার পূর্বঞ্চলের যমুনা সংলগ্ন ৬ টি উপজেলার বন্যা কবলিত অঞ্চলে আ্উস চাষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকে আমন রোপণ উপযোগী করতে ক্ষেত প্রস্তুত করতে ব্যাস্ত।
আবার কোন কোন কৃষক আমন রোপণে ব্যাস্ত সময় পার করছে। জেলার পশ্চিমাঞ্চলের ক্ষেত উঁচু হওয়ায় সেখানে প্রায় অধিকাংশ জমিতে আমন রোপণের কাজ শেষ করেছে কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারি কৃষি অফিসার ফরিদ উদ্দিন জানান ,এ বছর বগুড়ায় ১ লাখ ৪৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৩৫মেট্রিক টন(চাল আকারে)। জেলার পশ্চিমাঞ্চলের উপজেলা গুলো উঁচু। তাই এ এলাকাতে আগেই আমন চাষ শেষ করে ফেলেছে কৃষকরা। ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমন রোপণের শেষ সময় হলে এ পর্যন্ত জেলায় ৯৫ শতাংশ জমিতে আমান রোপণ সম্পন্ হয়েছে। গত বছরও এ্ সমপরিমান জমিতে আমন রোপণ করে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল বলে জানান এ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা।

তিনি আরো জানান ,এ বছর ৬ টি উপজেলায় বন্যার কারণে আমন রোপণ করতে পারেনি কৃষক। এ সব এলাকার কৃষক আমন চাষে কর্মব্যাস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যার কালিন সময়ে জেলার সোনাতলা ,সারিয়াকান্দি, ধুনট, শেরপুর,শাজানপুর , গাবতলী ,উপজেলায় মাঠে ছিল আউশ ধান, আমান চারা। বন্যায় আউশ ধান ও আমান চারা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এ আশংকা থেকে কৃসি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আগে থেকে জেলার উঁচু জমিতে আমান বীজতলা তৈরী করে চারা উৎপাদন করে। সেই কারণে বন্যাকবলিত এলাকার কৃষদের আমনা চারা সংকটে পড়তে হয়নি।

বন্যায় আমনের চারা ক্ষতি জন্য কৃষি বিভাগ রোপা আমান চারা ও ট্রে-তে চারা উৎপদন করেছে । বন্যায় তলিয়ে যাওয়া জমিতে তারা আমন চাষ শুরু করতে পারেনি। কৃষি বিভাগ প্রণোদনার চারা পাবার আগেই নিজ উদ্দেগে আমন চাষ শুরু করেছে। বন্যা কবলিত অঞ্চলে কৃষকরা কোন জমিতে আমান চারা রোপণ শুরু করেছে , আবার যে সব জমি থেকে বন্যার পানি নেমে যেতে সময় লেগেছে সেই সব ক্ষেত চারা রোপণ উপযেগিী করে তুলতে জমি চাষ শুরু করেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায় কোন রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর বগুড়ায় আমনের বাম্পার ফলন হবে। এ বছর বৃষ্টিপাত বেশি হওযায় আমন মৌসুম পানি জনিত কারণে কৃষকদের খরার মুখোমুখি হতে হবে না।মাটি প্রচুর পানি ধরে রেখেছে।