সহজেই ধূমপান ছাড়বেন যে উপায়ে

ধূমপানের নাম মাথায় আসলেই প্রথমে মনে পড়ে যে উক্তির কথা তা হল, ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু এই উক্তি ধূমপায়ীদের কখনও থামাতে পারেনি। যদি না সে নিজে থেকে ছাড়তে চায়। ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো সবার জানা। এরপরও অনেকে ধূমপান চালিয়ে যাচ্ছেন আবার অনেকে চেষ্টা করছেন ছেড়ে দিতে। কিন্তু ছাড়তে পারছেন না! নিরাশ হবার কিছু নেই, তাদের জন্য উপায় আছে কিন্তু।

আসুন জেনে নিন ধূমপান ছাড়ার ৮ উপায়:
১.ধূমপান ছাড়ার জন্যে প্রথমে দরকার ইচ্ছাশক্তি। আপনার এই ইচ্ছাশক্তি যত প্রবল হবে ততো তাড়াতাড়ি আপনি ধূমপান ছাড়তে সক্ষম হবেন।

২.অনেকেই সিগারেট ছাড়ার কথা ভেবে পকেটে সিগারেট রাখেন না। ভাবেন,পকেটে থাকলেই খেতে ইচ্ছে করবে। তারা বুঝতে পারেন না যে, সঙ্গে না থাকলে ধূমপানের ইচ্ছেটা আরও বেশি হবে। পকেটে সিগারেট না রাখলে দেখা যাবে, আপনি অন্যের কাছ থেকে সিগারেট চেয়ে নিচ্ছেন। তাই সিগারেট ও ম্যাচ পকেটেই রাখুন।

৩.আপনি শুধু খেয়াল রাখুন, কখন আপনি সিগারেট ধরান। ধূমপানের ইচ্ছা একেকজনের মধ্যে একেক সময়ে জাগে। কেউ টেলিফোনে আলাপ করতে করতে, কেউ কোনো আলোচনার শুরুতে, কেউ টিভি দেখার সময়, কেউ খাবারের পর পর, কেউ বা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে সিগারেট ধরান। এ সময়গুলোতে অনেকটা নিজের অজান্তেই সিগারেট ধরিয়ে ফেলেন। যদি সিগারেট ধরিয়েই ফেলেন, তখন নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, আপনি এখন সত্যি সত্যি সিগারেট খেতে চান কিনা?

৪.যদি সত্যি সত্যিই সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছা হয়, তাহলে অন্যসব কাজ বাদ দিয়ে আরাম করে বসুন। চুপচাপ বসে সিগারেট খান। মনোযোগ দিয়ে সিগারেট খান।

৫.সিগারেট খাওয়ার সময় শরীরের প্রতি মনোযোগ দিন। চোখ বন্ধ করে সিগারেটে টান দিয়ে অবলোকন করুন, সিগারেটের ধোঁয়া নাক দিয়ে যাচ্ছে। যেতে যেতে তা একটা গোখরা সাপের আকার ধারণ করছে। ফুসফুসে গিয়েই ফণা তুলে ছোবল মারছে আর ঢেলে দিচ্ছে নিকোটিন নামের বিষ। একটা বিষাক্ত সাপ ছোবল মারলে আপনার দেহ-মনে যে অনুভূতি সৃষ্টি হতো ক্ষণিকের জন্যে সে অনুভূতি সৃষ্টি করুন। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সে অনুভূতি না এলে অভিনয় করুন। (মনে করুন, মঞ্চে নাটক করছেন। নাটকে আপনাকে অভিনয় করতে হচ্ছে সাপে আক্রান্ত পথিকের ভূমিকায়। সত্যি সত্যি সাপ ছোবল মারলে আপনার যে মনোদৈহিক প্রতিক্রিয়া হতো, তাই করুন।) মনের চোখে আপনার নাক মুখ গলা হৃৎপিণ্ড পাকস্থলীর প্রতিক্রিয়া অবলোকন করুন।

৬.পুনরায় সিগারেটে টান দিন। অবলোকন করুন, আরেকটা গোখরা সাপ ফুসফুসের দিকে যা পূর্বের প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি করুন।

৭.এ পদ্ধতিতে পুরো সিগারেট শেষ করুন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় আপনার যে অনুভূতি হলো তা একটি কাগজ বা ডায়েরিতে লিখে রাখুন।

৮.সব কিছু বাদ দিয়ে শুধু মনে রাখুন, অন্যের সামনে বা অন্য কোনো কাজ করতে করতে সিগারেট খাবেন না। যখন সিগারেট খেতে ইচ্ছে করবে, অন্য সবকিছু বাদ দিয়ে নিরিবিলি বসে এ প্রক্রিয়ায় সিগারেট খাবেন।