স্বামী-স্ত্রীর যেসব ভুল কাজের জন্য সন্তান হিজড়া হয়ে জন্মায়

বৈবাহিক জীবনে স্বামী-স্ত্রীর যেসকল ভুলের জন্য সন্তান হিজড়া হয়ে জন্মায়– হিজড়া নামটির সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত। ব্যস্ত শহরের মোড়ে ওদের প্রায়ই দেখা যায়, রঙিন মুখে সাবলীল ভাষায় আবদার করে ওরা। “ট্যাকা দে…, অ্যাই দিবি না?“- রাস্তাঘাটে চলাচল করতে গিয়ে এ ধরনের কথা মাঝেমাঝেই আমাদের কানে আসে বা

এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হই আমরা। রক্ত-মাংসের তৈরি হলেও তাদের পরিচয় কিছুটা আলাদা। কেউ তাদের বলে ‘হিজড়া’, কেউ বলে ‘তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ’, কেউ বা বলে ‘নপুংশক’। ওদের নানারকম নাম, হিজড়া, তৃতীয় লিঙ্গ, নপুংসক ইত্যাদি আরও কতকিছু।

কিন্তু ওরা কিন্তু জন্মের থেকেই এমন থাকে না। ওরা জন্মের পর যখন আস্তে আস্তে বড় হতে শুরু করে তখনই এই লক্ষণ গুলি ফুটে ওঠে। হিজড়ারা সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত মানবগোষ্ঠী। শারীরিক গঠনগত কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে সমাজ তাদের অস্পৃশ্য বলে মনে করে। তাদের জন্য সামান্য সামাজিক সুযোগ সুবিধা গুলো পর্যন্ত দেওয়া হয়না।

আর ঠিক এই কারণেই সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, যেটা হিজড়া দের কাছে আয়ের উৎস। আজ আমরা এই প্রতিবেদনে জানবো যে, কিজন্যে একজন সাধারণ মানুষের মতো না হয়ে এমন হয়। আসুন জেনে নিই বিজ্ঞান এ বিষয়ে কি বলে। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ভ্রূণ বিকাশের সময় অস্বাভাবিক হরমোনের নিঃসরণের কারণে হিজড়া সন্তানের জন্ম হয়ে থাকে। পে;নিস, টেস্টিস এবং ক্লিটোরিসে জিনগত ত্রুটির কারণে ফিটাসে অস্বাভাবিক সে’ক্স হরমোনের নিঃসরণ হয়।চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অস্বাভাবিক ঘটনাটিকে

‘কনজেনিটাল অ্যাড্রেনাল হাইপারপ্লাসিয়া’ বলা হয়, যার ফলশ্রুতিতে অস্বাভাবিক ক্রোমোজোমের বিভাজন হয়। আর তার ফলেই জন্ম হয় হিজড়া সন্তানের। ক্র’মোজোম হলো বংশগতির ধারক ও বাহক। এর কাজ হচ্ছে মাতা-পিতার জিনগত বৈশিষ্ট্য সন্তানের মাঝে বহন করে নিয়ে যাওয়া।

মানুষের শরীরে ২৩ জোড়া ক্রো’মোজম থাকে, যার মধ্যে ১ জোড়া হল সে’ক্স ক্রো’মোজম। এই সে’ক্স ক্রো’মোজমই লি’ঙ্গ নির্ধারণ করে। মায়ের শরীরে এক জোড়া ’XX’ সে’ক্স ক্রোমোজোম এবং বাবার শরীরে ’XY’ সে’ক্স ক্রো’মোজোম থাকে। মা ও বাবা উভয়ের X ক্রো’মোজোম মিলিত হলে অর্থাৎ ’XX’ ক্রোমোজমের মি’লন হলে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। আর মায়ের X ক্রো’মোজোম ও বাবার Y ক্রোমোজোম মিলিত হলে অর্থাৎ XY’ ক্রো’মোজমের মি’লন হলে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু বিপত্তিটা তখন হয় যখন

এই ক্রোমোজমের সঠিক বিন্যাস না হয়। ভ্রুণের বিকাশকালে যদি অস্বাভাবিক বিন্যাসে ’XXY’ বা ’XYY’ প্যাটার্ন তৈরি হয় তাহলেই জন্ম হয় হিজড়া শিশুর। কিন্তু একটা কথা ডাক্তার রা বলে, যে সঠিক সময় যদি ঠিকঠাক চিকিৎসা করা যায়। তাহলে তাকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে যখন জানা যায় তখন আসলে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। র কিছুই করার থাকে না।

x