‘ক্ষ’মা’ চেয়ে হাসপাতাল থেকে স্ত্রীর ‘ম’র’দে’হ’ নিয়ে গেলেন মুক্তিযোদ্ধা

আবারও পুরনো চেহারায় ফিরলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বুধবার (২ আগস্ট) সকালে বিনা চিকিৎসায় ‘মা’রা’ যান মুক্তিযোদ্ধা ও ‘পু’লি’শে’র’ সাবেক কর্মকর্তা ইসাহাক আলীর স্ত্রী পারুল বেগম (৬৫)। মায়ের চিকিৎসায় অবহেলার প্রতিবাদ করেন ছেলে শিক্ষা কর্মকর্তা রাকিবুল। এরপর একদল ইন্টার্ন চিকিৎসক ‘জো’ট’ব’দ্ধ’ হয়ে বাবার সামনেই রাকিবুলের ওপর ‘ঝাঁ’পি’য়ে’ পড়েন।

ওই সময় ‘লা’ঞ্ছ’না’র’ ‘শি’কা’র’ হন রাকিবুল ইসলামের সহকর্মী মুস্তাফিজুর রহমানসহ আরও বেশ কয়েকজন স্বজন। নানা ‘হ’য়’রা’নি’ শেষে দুপুর নাগাদ মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়ে হাসপাতাল থেকে স্ত্রীর ‘ম’র’দে’হ নিয়ে যান। ‘ক্ষ’মা’ চান তার ছেলেও।

কিন্তু এতেও শেষ রক্ষা হয়নি। রাকিবুল ইসলামের ‘বি’রু’দ্ধে’ দুপুরে রামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুক্তার হোসেন ‘বা’দী’ হয়ে ‘মা’ম’লা’ করেন নগরীর রাজপাড়া থানায়। সরকারি কাজে ‘বা’ধা’ দেয়ার ‘মা’ম’লা’য়’ ‘আ’সা’মি’ করা হয় রাকিবুল ইসলামকে। হাসপাতাল থেকেই তাকে ‘গ্রে’ফ’তা’র’ করে নিয়ে যায় ‘পু’লি’শ’। দুপুরের পর তোলা হয় আদালতে।

বিকেলে ‘আ’দা’ল’ত’ তাকে তিনদিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন। আগামী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) তার ‘আ’দা’ল’তে হাজির হওয়ার কথা। মহানগর ‘আ’দা’ল’ত পুলিশের পরিদর্শক আবুল হাসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
‘ভু’ক্ত’ভো’গী মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আটরশিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তা পরিবার নিয়ে রাজশাহী নগরীর টিকাপাড়ায় বাস করতেন।

তার একমাত্র ছেলে রাকিবুল ইসলাম লিটন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসে সহকারী পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। বুধবার রাত ৮টার দিকে মৃত পারুল বেগমের ‘ম’র’দে’হ তার গ্রামের বাড়িতে ‘দা’ফ’ন করা হয়। তবে মায়ের ‘জা’না’জা’য় অংশ নেয়া নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন ছেলে রাকিবুল ইসলাম।

মায়ের ‘ম’র’দে’হ ‘দা’ফ”ন’ শেষ করে এসে রাকিবুল ইসলাম জানান, তার মা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। কোমর থেকে বাম পা পুরোটাই ব্যথা ছিলো দুই দিন ধরে। সোমবার (৩১ আগস্ট) চিকিৎসক দেখানো হয়। রাতে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু ঘুম হয়নি। ফজরের সময় বাবা-মা দুজনেই নামাজ পড়তে উঠেছিলেন। বাবা নামাজ আদায় করেছেন। কিন্তু মা নামাজ আদায় করতে পেরেছিলেন কি-না জানেন না। নামাজ শেষে মাকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পান বাবা। দ্রুত তাকে রামেক হাসপাতালে নেয়া হয়।

সকাল ৭টার মধ্যেই তাকে হাসপাতালের ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে নেয়া হয়। ওই সময় দায়িত্বরত চিকিৎসক কিছু ওষুধ লিখে দেন। তিনি দ্রুত সেই ওষুধ আনেন। ওষুধ এনে প্রায় ২০ মিনিট ধরে তিনি চিকিৎসক-নার্সদের খুঁজতে থাকেন। অনেক ডাকাডাকির পরও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। তারা জানান, এখন ডিউটি শিফট শেষ, তারা কিছুই করতে পারবেন না।

এরই মধ্যে প্রায় ঘন্টাখানেক পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘসময় পর স্যালাইন-অক্সিজেন দেয়া হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মা মারা যান। বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি।
রাকিবুল ইসলাম জানান, ওই সময় কাউকে উদ্দেশ্য না করেই আক্ষেপ করে তিনি কিছু কথা বলেন। সঙ্গে থাকা স্বজনরা তাকে পরে শান্ত করেন। তখন সেখানে কোনো চিকিৎসক-কিংবা নার্স কেউ ছিলেন না। এরপর একজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক তার কাছে আসেন। ওই সময় তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, প্রয়োজনের সময় এলেন না, এখন কেন এলেন। পরে ওই চিকিৎসক পাল্টা প্রশ্ন তোলেন-কেন চিকিৎসকদের গালাগাল দেয়া হলো।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের হাত থেকে লাঠি কেড়ে নিয়ে ওই চিকিৎসক তাকে ‘মা’র’তে’ শুরু করেন। তার মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে ওই চিকিৎসক ‘লা’থি’ ‘মা’রে’ন’। এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এরপর আনসার সদস্যরা তাকে আটকে ফেলেন। কিন্তু হামলাকারী চিকিৎসকদের আ’ট’কা’ননি তারা। পরে আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক এসে তার ওপর আরেক ‘দ’ফা ‘হা’ম’লা চালান। ‘হা’ম’লা’র ‘শি’কা’র হন তার স্বজন ও সহকর্মীরাও। পরে তাকে একটি কক্ষে ‘আ’ট’কে’ রাখা হয়। সেখানেও ‘হা’ম’লা’ চালানোর চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। শেষে পুলিশ এসে তাকে ‘উ’দ্ধা’র করে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘হা’ম’লা’র’ শিকার হয়েও আমি বিচার প্রার্থী হয়নি। উল্টো চিকিৎসকদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনন দাস জানান, পারুল বেগমের ‘মৃ’ত্যু’র’ ‘ঘ’ট’না’য়’ তার ছেলে রাকিবুল চিকিৎসক ও নার্সদের ‘বি’রু’দ্ধে’ ‘অ’ভি’যো’গ’ এনে গালাগাল করছিলেন। ‘প্র’তি’বা’দ করলে চিকিৎসক শোভন ও রহিমের ওপর হামলা করেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে ‘আ’ট’ক করে নিয়ে যায়।

x