হা’মলা’র সময় কী করছিলো ইউএনও’র ৩ বছরের শিশুপুত্র

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে ঢুকে দু’র্বৃ’ত্ত’রা হা’ম’লা চা’লিয়ে তাকে গু’রু’তর আ’হত করে। এসময় তার বাবা মু’ক্তি’যো’দ্ধা ওমর আলী শেখ (৭০) কে কু’পি’য়ে জ’খ’ম করেছে দৃ’র্বৃ’ত্ত’রা। তাদেরকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে রংপুরে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় আ’শং’কা’জ’নক অবস্থায় বুহস্পতিবার ১টায় এয়ার এ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় নেয়া হয় ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে।

বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার সময় ঘোড়াঘাট উপজেলা ক্যাম্পাসে ইউএনও’র সরকারি বাসভবনে নিরাপত্তা প্রহরী নাহিদ পলাশকে বেঁ’ধে একটি কক্ষে আ’টকে রেখে ভবনের ২য় তলায় থাকা ভেন্টিলেটর খুলে ভেতরে প্রবেশ করে দু’র্বৃ’ত্ত’রা। বাড়িতে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে প্রথমে কু’পি’য়ে জ’খ’ম করে দু’র্ব’ত্ত’রা।

এরপর তাকে বাঁচাতে তার বৃদ্ধ পিতা মু’ক্তি’যো’দ্ধা ওমর আলী শেখ এগিয়ে আসলে তাকেও কু’পি’য়ে জ’খ’ম করে তারা। এসময় তারা অ’জ্ঞান হয়ে পড়ে। তাদের অ’জ্ঞান অবস্থায় ফে’লে পা’লিয়ে যায় দু’র্বৃ’ত্ত’রা। সরকারি ওই বাড়ীতে ইউএনও ওয়াহিদা খানম, তার ৩ বছরের পুত্র সন্তান আদিয়াত ও ইউএনও’র বাবা মু’ক্তি’যো’দ্ধা ওমর আলী শেখ থাকতেন। ঘটনার সময় ঘুমিয়েছিল ৩ বছরের শিশুপুত্র আদিয়াত।

ভোরে স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের অবস্থা খুবই গু’রু’তর হওয়ায় তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা নিউরো মেডিসিন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তার বাবা মু’ক্তি’যো’দ্ধা ওমর আলী শেখ কে রংপুর মেডিকেলের নিউরো মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ওয়াহিদা খানম ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি অ’বৈধ স্থাপনা উ’চ্ছে’দ, অ’বৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা সহ চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থির মাঝে জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে কাজ করে গেছেন। তার স্বামী মেজবাউল হোসেন পাশ^বর্তী রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুর নেওয়াজ আহম্মেদ বলেন, ভোর ৬টার সময় উপজেলার স্টাফরা আমাকে খবর দেয়। তাৎক্ষণিক ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখি ইউএনও গু’রু’তর জ’খ”ম অবস্থায় অ’জ্ঞান হয়ে বিছানার উপরে পড়ে আছে এবং তারা বৃদ্ধ বাবা র’ক্তা’ক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছিলেন। আমরা প্রাথমিক ভাবে র’ক্ত বন্ধ করার জন্য ব্যান্ডেজ করে রংপুর মেডিকেলে পাঠিয়ে দেই।

এদিকে এই ঘটনার পর সকালেই দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল আলম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনসহ উদ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা এটি ডা’কা’তির উদ্দেশ্যে নয়, হ’ত্যা’র উদ্দেশ্যেই হা’ম’লা চা’লা’নো হয়েছে। তবে পুরোপুরি তদন্ত না করে এটি বলা যাবে না। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার ওয়াদুদ ভুইয়া ও পুলিশের রংপুর বিভাগীয় ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এসময় ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এতে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, সিআইডি, পিবিআইসহ সরকারি অন্যান্য সংস্থারাও কাজ করছে। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রে’ফ’তার করা হয়নি বলে জানান তিনি।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার ওয়াদুদ ভুইয়া সাংবাদিকদের জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনটি সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল। ইতিমধ্যে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে ২ জনকে দেখা গেছে। এর মধ্যে একজন পিপিই পড়া ছিলো এবং অন্যজনের মুখোশ পড়া ছিলো। আমরা দ্রু’ত’তম সময়ে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পারবো বলে আশা করছি। তিনি এই ঘটনাকে একটি জঘ’ন্য’তম ঘটনা বলে উল্লেখ করেন।

x