তিনজনই যুবলীগের, আইসিইউতে ‘মু’খ’ ‘খু’লে’ছে’ন ইউএনও ওয়াহিদা

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের অ’স্ত্রোপচারের পর রাতেই জ্ঞান ফিরে এসেছে। বর্তমানে হাসপাতা’লের আইসিইউতে তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকরা।
শুক্রবার দুপুরে তার সিটি স্ক্যান রিপোর্টও শতভাগ ভালো এসেছে। তিনি চিকিৎসক এবং স্বামীর সঙ্গে মুখ খুলে কথা বলেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও ওয়াহিদা খানমের স্বামী মেজবাউল হোসেন।
এদিকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওম’র আলীর ওপর হা’মলার ঘটনায় গ্রে’ফতার উপজে’লা যুবলীগের তিনজনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃতিরা হলেন ঘোড়াঘাট উপজে’লার আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম (৪২) ও উপজে’লা যুবলীগের সদস্য আসাদুল ইস’লামকে (৩৫) দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়ও ঘোড়াঘাট সিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা মাসুদ রানাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দিনাজপুর জে’লা যুবলীগ মাসুদ রানাকে বহিষ্কার করেছে এবং কেন্দ্র থেকে বাকি দুইজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শুক্রবার দিনাজপুর জে’লা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয়রা তাদের বি’রুদ্ধে চাঁদাবাজি, হয়’রানি, মা’দক সেবনের অ’ভিযোগ আনায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, তাদেরকে আর কখনও আওয়ামী লীগের কোন অঙ্গসংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হতে দেয়া হবে না।
এদিকে দিনাজপুরে ঘোড়াঘাট উপজে’লার নির্বাহী কর্মক’র্তা ওয়াহিদা খানম এবং তার বাবার ওপর হা’মলার ঘটনায় যে চারজন স’ন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে দুইজন সরাসরি হা’মলায় সম্পৃক্ত ছিল বলে জানিয়েছেব রেবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

গত বুধবার মধ্যরাতে উপজে’লার নির্বাহী কর্মক’র্তার সরকারি ভবনে ঢুকে হা’মলা চালায় দুষ্কৃতিকারীরা।
ঘটনার পর পর ত’দন্তে নামে র‌্যা’­ব ও পু’লিশের যৌথ দল। বৃহস্পতিবার দিনাজপুর ডিবি গোয়েন্দা পু’লিশ ইউএনও’র বাসভবনের নৈশ প্রহরী পলা’শকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আ’ট’ক করে।

এরপর তারা গো’পন খবরের ভিত্তিতে ঘোড়াঘাট থেকে জাহাঙ্গীর ও মাসুদ রানা নামে আরও দু’জনকে আজ ভোরে স’ন্দেহভাজন প্রধান আসামী আসাদুল হককে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজে’লার হিলি সীমান্ত এলাকা থেকে আ’ট’ক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘটনার ত’দন্তে এর মধ্যে ৭ সদস্যের ত’দন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তাদের নিরাপত্তা জো’রদার করার লক্ষ্যে এরইমধ্যে রংপুর বিভাগের ৫৮টি উপজে’লায় ইউএনওদের নিরাপত্তায় ১০ জন করে অ’স্ত্রধারী আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এই ঘটনার পেছনে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
শুক্রবার এ ঘটনায় অ’জ্ঞাতদের আ’সামি করে ঘোড়াঘাট থা’নায় মা’মলা করেন ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ভাই।
হা’মলার পর গতকাল ভোরের দিকে ওয়াহিদা খানম এবং তার বাবা ওম’র আলী শেখকে উ’দ্ধার করে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ওয়াহিদা খানমকে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল ভর্তি করা হয়।

পরে ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতা’লে নিয়ে আসা হয়। গত রাতে প্রায় দুই ঘণ্টা অ’স্ত্রপচারের পর মিসেস খানমের জ্ঞান ফিরে।

x