আজানের ধ্বনি শোনা যায়নি সেই মসজিদে

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার আশপাশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা প্রতিদিনেই বাইতুস সালাত জামে মসজিদ থেকে আসা আজানের ধ্বনি শুনে মসজিদে যেতেন।

নামাজ পড়তেন। নিমগ্ন হতেন আল্লাহতালার ধ্যানে। কিন্তু আজ ফজরের সময় এই চিত্র আর দেখা যায়নি সেই মসজিদে।

গতকাল শুক্রবার রাত নয়টার দিকে মসজিদটির ছয়টি এয়ার কন্ডিশানার (এসি) বিস্ফোরিত হয়।

এরপর থেকেই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে মসজিদটিতে আজান ও নামাজ বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। যে কারণে আজ শনিবারও জহোরের আজান ও নামাজও হয়নি।

এ ঘটনায় দগ্ধ হন ৩৭ জন মুসল্লি। এরই মধ্যে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্সটিটিউটে মারা যান ১৪ জন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন আরও অনেকেই।

মসজিদ কমিটির সভাপতি গফুর মেম্বারের ভাই আবুল কাশেম গণমাধ্যমকে জানান, শুনেছি মুয়াজ্জিন মারা গেছেন। ইমাম সাহেবও দগ্ধ হয়েছেন।

বিস্ফোরণের কারণে আপাদত নামাজ পড়ার অবস্থাও নেই বাইতুস সালাত জামে মসজিদে।

সরজমিনে দেখা গিয়ে দেখা গেছে, বর্তমানে মসজিদটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। এরই মধ্যে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।

বিস্ফোরণে মসজিদটির ভেতরে থাকা লাইট ভেঙে গেছে। ফ্যানের পাখাগুলো বাঁকা হয়ে গেছে। ছয়টি এয়ার কন্ডিশনার দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। তবে আগুনের তেমন কোনও চিহ্ন নেই।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডিডি নূর হাসান জানিয়েছেন, এসি বিস্ফোরণের পর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে আবার দ্রুতই তা নিভে গেছে। যে কারণে মসজিদটি দেখে বিস্ফোরণের ভয়াবহতা বুজা যাচ্ছে না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এশার নামাজ চলাকালে এই বিস্ফোরণ ঘটে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, রাত পৌনে ৯টার দিকে মসজিদের ভেতরে থাকা এসির বিস্ফোরণ ঘটে।

মুহূর্তের মধ্যে মসজিদের ভেতরে থাকা ৩০ থেকে ৪০ জনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করে তারা বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের অনেকেই দগ্ধ ও আহত ছিলেন।

x