স্পেনের হয়ে রেকর্ড গড়ে মেসিকেও ভরসা দিলেন ফাতি

এ মাঠে কখনো খেলার কথা ছিল না আনসু ফাতির। সেই কৈশোর থেকে যার গায়ে বার্সেলোনার জার্সি, তাঁর পক্ষে সর্বোচ্চ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রতিপক্ষ হিসেবে খেলার কথা। রিয়ালের অনুশীলন মাঠে কেনই-বা খেলবেন বার্সার ফাতি! কিন্তু ভাগ্যে থাকলে ঠেকায় কে? স্পেনের জার্সিতে কাল ইতিহাসটা আলফ্রেডো ডি স্টেফানো স্টেডিয়ামেই হলো। কাল দল হিসেবে ইউক্রেনকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পথে ব্যক্তিগত এক অনন্য অর্জন হয়ে গেল ফাতির। এই ফরোয়ার্ডের চেয়ে কম বয়সে কেউ গোল করেননি স্পেনের হয়ে।

জার্মানির বিপক্ষে গত ম্যাচেই রেকর্ডটা হয়ে যেতে পারত ফাতির। কিন্তু হেডে করা তাঁর দারুণ গোলটা বাতিল হয়ে যায় সার্জিও রামোসের ফাউলে। কাল আর তেমন কোনো ঝামেলা হয়নি। সার্জিও রেগিলনের কাছ থেকে বল পেয়ে যে শট নিয়েছেন তার আগে পরে কোনো ধরনের ফাউল হয়নি। ফলে ১৭ বছর ৩১১ দিন বয়সেই স্পেনের হয়ে গোল করার রেকর্ডটা হয়ে গেল। এত দিন এ রেকর্ডটা ছিল হুয়ান এরাজকিনের। এই স্ট্রাইকার ১৮ বছর ৩৪৪ দিন বয়সে স্পেনের হয়ে গোল করেছিলেন।

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯২৫ সালের ১ জুন অবশ্য মাত্র এক গোলেই থামেননি এরাজকিন, একেবারে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে নিয়েছিলেন। কাল ফাতির পক্ষেও হয়তো তেমন কিছু করা সম্ভব ছিল। ম্যাচের তিন মিনিটেই দলকে একটি পেনাল্টি এনে দিয়েছেন এই বার্সা ফরোয়ার্ড। সেখান থেকে গোল করার দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন এমন একজন, যার জাতীয় দলের হয়ে খেলার রেকর্ড ফাতির বয়সের চেয়ে মাত্র দুই কম। ৩ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেওয়া রামোস ২৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেছেন।

৩২ মিনিটে ফাতির রেকর্ডের পরও স্পেনের খেলার ধার কমেনি খুব একটা। প্রথমার্ধে তিন গোলে এগিয়ে যাওয়া স্পেনকে ম্যাচে চতুর্থ গোল এনে দিয়েছেন আরেক তরুণ ফেরান তোরেস। ফাতির মতোই জার্মানির বিপক্ষে অভিষিক্ত এই ২০ বছরের উইঙ্গার কাল নেমেছিলেন বদলি হয়ে। ৭৪ মিনিটে নামা ১০ মিনিট পরেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রথম গোল পেয়ে গেছেন কাল।

তবে ফেরানের দুর্ভাগ্য গতকালের ম্যাচের প্রসঙ্গে সবাই ফাতির কথাই মনে রাখবেন। এমনকি আন্তর্জাতিক ফুটবলে ডিফেন্ডার হিসেবে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড গড়া (২৩ গোল) রামোসও আড়ালে পড়ে গেছেন তাঁর। নিজের অর্জনে অবশ্য দলের সবার অবদান দেখছেন, ‘লুইস এনরিকে ও অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করে গর্বিত আমি। প্রথম দিন থেকে আমাকে সবাই স্বাগত জানিয়েছে এবং আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। এখন আমাকে বিনয়ের সঙ্গে নিজের কাজটা করতে হবে।’

ফাতির এমন পারফরম্যান্স দেখে খুশি হবেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও রয়ে গেছেন মেসি। ক্লাবের কোনো ভবিষ্যৎ প্রকল্প না থাকা ও ভালো খেলোয়াড়ের অভাবকে ক্লাব ছাড়তে চাওয়ার কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন মেসি। এ মৌসুমে সেদিক থেকে কিছুটা হলেও বার্সেলোনার অধিনায়কের ক্ষোভ কমার কথা। ফাতি তো গত মৌসুম থেকেই আলো ছড়াচ্ছেন। এবার তাঁর সঙ্গে যোগ হয়েছেন আরও দুই তরুণ ত্রিনকাও ও পেদ্রি। হয়তো এই তরুণেরাই মেসিকে নতুন করে ভরসা জোগাবেন বার্সেলোনার ব্যাপারে!

x