টিকার প্রতি আস্থায় বিশ্বে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং অনলাইনে ভুল তথ্য বিশ্বব্যাপী টিকা কর্মসূচিকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এসব কারণে টিকার প্রতি জনসাধারণের আস্থা দেশভেদে ব্যাপক পরিবর্তিত হচ্ছে। টিকার প্রতি আস্থা আছে এমন তালিকায় বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তালিকায় কয়েক পয়েন্টের ব্যবধানে সবার ওপরে রয়েছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বব্যাপী টিকার প্রতি মানুষের আস্থা নিয়ে করা একটি গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

টিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কতটা নিরাপদ ও কতটা কার্যকর- এই বিষয়গুলো আস্থা তৈরিতে সহায়তা করে। যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেলজিয়ামের সেন্টার ফর দ্য ইভালুয়েশন অব ভ্যাকসিনেশন, ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ ইনস্টিটিউটের পাঁচজন গবেষকের একটি প্রবন্ধ ১০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেটে ছাপা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স।

এই গবেষণা করোনার টিকার প্রতি মানুষের আস্থার বিষয়ে পরিচালিত হয়নি। বিশ্বের সার্বিক টিকার বিষয় নিয়েই এই গবেষণাটি হয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ১৪৯টি দেশের টিকার প্রতি আত্মবিশ্বাসের প্রবণতা নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, টিকার নিরাপত্তার বিষয়ে সংশয় বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং ধর্মীয় উগ্রবাদের পাশাপাশি বেড়ে গিয়েছে।

গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী লন্ডন হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিনের অধ্যাপক হেইডি লারসন বলেন, কোভিড-১৯ এর মতো নতুন উদীয়মান রোগের হুমকির সঙ্গে সঙ্গে আমরা জনগণের দৃষ্টিভঙ্গিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করি।

তিনি বলেন, টিকা সম্পর্কে মানুষের ধারণা আগের তুলনায় অনেক বেশি উদ্বেগজনক। সামগ্রিকভাবে টিকা সম্পর্কে বিশ্বে অনেক আস্থা রয়েছে। তবে এটিকে সন্তোষজনক বলে গ্রহণ করবেন না। আত্মবিশ্বাস উঠছে এবং নামছে, এটি অত্যন্ত পরিবর্তনশীল।

ল্যানসেট মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা ২০১৯ সালে দুই লাখ ৮৪ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে তাদেরকে টিকার গুরুত্ব, নিরাপদ এবং কার্যকর কি না এসব বিষয়ে তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়।

লারসন বলেন, বিশ্বজুড়ে মাদক প্রস্তুকারীরা এবং গবেষকরা কোভিড-১৯ মহামারির টিকা তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে সরকারকে এখন টিকার প্রতি মানুষের আস্থা এবং প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে টিকা বিকাশের গতি সম্পর্কে উদ্বেগ রয়েছে। তবে জনগণ গতির চেয়ে মূল্য, কার্যকারিতা এবং সুরক্ষার বিষয়ে বেশি আগ্রহী।

ওই গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, টিকার ওপর আস্থা সবচেয়ে বেশি রাখে আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশের মানুষ। বাংলাদেশের প্রায় ৮৬ শতাংশ মানুষের ধারণা, টিকা নিরাপদ। এই হার বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রথম স্থানে আছে আর্জেন্টিনা। দেশটির প্রায় ৮৯ শতাংশ মানুষ টিকা নিরাপদ বলে মনে করে।

ফ্রান্স ও জাপানের মানুষ টিকাকে সবচেয়ে কম নিরাপদ বলে মনে করে। এই দুটি দেশের ৯ শতাংশ মানুষ টিকা নিরাপদ বলে মনে করে। গবেষকদের দাবি, টিকা কতটা নিরাপদ বা টিকার ওপর আস্থা বিষয়ে এত বড় গবেষণা এর আগে হয়নি।

ইথিওপিয়ার লোকজন টিকাকে শুধু গুরুত্বপূর্ণই মনে করে, তা নয় দেশটির নাগরিকেরা বলছেন, রোগ প্রতিরোধে টিকা যথেষ্ট কার্যকর। ইথিওপিয়ার ৮৭ শতাংশ মানুষ মনে করে টিকা রোগ প্রতিরোধ করে অর্থাৎ, টিকা কার্যকর। বাংলাদেশের ৭৫ শতাংশ মানুষেরও এ রকম ধারণা। তবে এই ধারণা সবচেয়ে কম মরক্কোর মানুষের মধ্যে। দেশটির মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ মনে করে রোগ প্রতিরোধে টিকা কার্যকর।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষের মধ্যে টিকার ব্যাপারে আস্থা কমেছে। আবার ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড ও ইতালির মানুষের মধ্যে আস্থা বেড়েছে।

x