সাদেক বাচ্চুর চিকিৎসায় ডাক্তারদের আর কিছুই করার নেই

জ্বরে ‘আ’ক্রান্ত হয়ে গেল ৬ সেপ্টেম্বর দ্রুতই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা সাদেক বাচ্চুকে। গতকাল করোনা পরীক্ষা করার পর জানা যায় করোনাভাইরাসে ‘আ’ক্রান্ত হয়েছেন এ অভিনেতা।

শারীরিক অবস্থার ‘অ’বনতি হওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি কোভিড ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন।

এরমধ্যে সাদেক বাচ্চুর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। এই মুহূর্তে জীবন ‘মৃ’ত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন তিনি। আজ রোববার সকালে গণমাধ্যমকে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, দুপুরে সাদেক বাচ্চুর চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড বসবে।

মেডিকেল বোর্ড মিটিং শেষে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী জানিয়েছেন, সাদেক বাচ্চুর চিকিৎসায় ডাক্তারদের আর কিছুই করার নেই। রোববার পৌনে ৫টার দিকে তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘সাদেক বাচ্চুর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। তাকে শতভাগ অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। দুপুরে প্রফেসর রেদোয়ানুর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড বসেছিল।

তারপর উনার চিকিৎসায় কিছুটা পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়েছে। তবে এখন যে অবস্থা উনার, চিকিৎসায় ডাক্তারদের আর কিছুই করার নেই। তার অবস্থার উন্নতি হতে পারে, আবার অবনতিও হতে পারে।’

সাদেক বাচ্চু বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম খল-অভিনেতা। গুণী এই অভিনয়শিল্পী বেশ কিছুদিন ধরে অভিনয়ে অনিয়মিত। পাঁচ দশকের লম্বা ক্যারিয়ারে মঞ্চে, বেতারে, টিভিতে, সিনেমায়, সর্বত্র দাপুটে বিচরণ ছিল তাঁর। অবশ্য রেডিও, টেলিভিশনে যাওয়ার আগে মঞ্চে ওঠেন সাদেক বাচ্চু। শিশুকাল থেকে মঞ্চের সঙ্গে তাঁর বন্ধন। মতিঝিল থিয়েটার তাঁর নাট্যদল। দলের সভাপতি তিনি। এখনো নাটক রচনা করেন, নির্দেশনা দেন। গত বইমেলায়ও মুক্তমঞ্চে নাটক মঞ্চস্থ করেছেন।

১৯৭৭-৭৮ সালে বিটিভির নিয়মিত শিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করেন সাদেক বাচ্চু। বিটিভিতে তার অভিনীত প্রথম নাটক ‘প্রথম অঙ্গীকার’। মঞ্চ ও টিভি নাটক থেকে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৮৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রামের সুমতি’ চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করেন সাদেক বাচ্চু। এরপর প্রায় পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তিনি। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তুলেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম খল-অভিনেতা হিসেবে।

এই অভিনেতার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার’, ‘জীবন নদীর তীরে’, ‘জোর করে ভালোবাসা হয় না’, ‘তোমার মাঝে আমি’, ‘ঢাকা টু বোম্বে’, ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’, ‘এক জবান’, ‘আমার স্বপ্ন আমার সংসার’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’, ‘বধূবরণ’, ‘ময়দান’, ‘আমার প্রাণের স্বামী’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘প্রিয়জন’, ‘সুজন সখি’ ইত্যাদি।

২০১৮ সালে ক্যারিয়ারের একমাত্র জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করেন সাদেক বাচ্চু। অভিনয় জীবনের বাইরে তিনি বাংলাদেশ ডাক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। একজন লেখক হিসেবেও নানা বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন তিনি।

x