সংসদে কঙ্গনাকে ধুয়ে দিলেন জয়া

রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে কঙ্গনা রনৌতকে একহাত নিলেন অভিনেত্রী ও সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জয়া বচ্চন।

এসময় তার তোপের মুখে পড়েছেন বিজেপির সাংসদ-অভিনেতা রবি কিষাণও।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রবির বক্তব্যের জের ধরে সংসদের দ্বিতীয় দিনে আজ জিরো আওয়ারে বক্তব্য রাখেন জয়া বচ্চন।

বর্তমানে চিত্রনায়ক সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্তে বলিউডের মাদক-যোগের বিষয়টি উঠে আসায় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন জেগেছে।

অনবরত কথা বলে চলেছেন কঙ্গনা। এমনকি তিনি ‘নর্দমার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন বলিউড ইন্ডাস্ট্রিকে।

জয়া বচ্চন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তাই রাজ্যসভায় বলেন, ‌‘‘বিনোদন জগতের মানুষদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভর্ৎসনার শিকার হচ্ছে।

যে সব লোকেরা এই ইন্ডাস্ট্রিতে এসেই নাম কামিয়েছেন, তারাই এখন একে ‘নর্দমা’ বলছেন।

আমি এর সঙ্গে একেবারেই একমত নই। আশা করব, এই ধরনের লোকদের এই ভাষা ব্যবহার বন্ধ করতে বলবে সরকার।’’

দিন কয়েক আগেই বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে ‘গটর’ অর্থাৎ নর্দমা বলেছিলেন কঙ্গনা।

তার মতে, ইন্ডাস্ট্রির ৯৯ শতাংশ মানুষই মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন।

এর আগে বিজেপি সাংসদ রবি কিষাণ বলেছিলেন, ‘দেশের যুব সম্প্রদায়কে শেষ করে দিতে ষড়যন্ত্র চলছে।

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও মাদকাসক্তি রয়েছে। অনেককেই ধরা হয়েছে। খুব ভালো কাজ করছে এনসিবি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলব কেন্দ্রীয় সরকারকে।’

এদিন একই ইস্যুতে কঙ্গনার পাশাপাশি বিজেপি সাংসদ রবি কিষাণের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জয়া।

বলেন, ‘মাত্র কয়েকজনের জন্য গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে আপনি কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারেন না।

আমি লজ্জিত যে গতকাল আমাদের লোকসভার এক সদস্য, যিনি নিজেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিরই লোক, এর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। এটা খুবই লজ্জার।’

এদিকে রাজ্যসভায় এমন বক্তব্য শোনার পর তর্কযুদ্ধে সামিল হতে মোটেও দেরি করেননি কঙ্গনা।

বরাবরের মতো নিজস্ব ভঙ্গিতে হাজির হয়েছেন টুইটারে।

সেখানে জয়াকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ‘জয়াজি, আমার জায়গায় যদি আপনার মেয়ে শ্বেতাকে টিনেজ বয়সে মারধর করা হতো, ড্রাগ খাওয়ানো হতো জোর করে, এই একই কথা বলতে পারতেন তো?

আপনার ছেলে অভিষেক যদি দিনের পর দিন হেনস্থার শিকার হয়ে কোনও দিন গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে যেতেন, এ কথা বলতেন তো? তাই এই সব না বলে, আমাদের প্রতি হাতজোড়া করে সহমর্মিতা দেখান।’

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

x