‘দুইটা বাচ্চা নিয়ে কার কাছে দাঁড়াবো’

‘আমি এখন কি করবো রে..দুইটা বাচ্চা নিয়ে কার কাছে দাঁড়াবো। তুমি আমা’রে কি কই’রা গেলা।’ এসব কথা বলে বিলাপ করে কাঁদছিলেন পায়ুপথে বাতাস ঢোকানোর কারণে পেট ফুলে মা’রা যাওয়া পরিচ্ছন্নতাকর্মী জুলহাস হোসনের স্ত্রী’ জুলেখা বেগম।

এ সময় বারান্দায় গড়াগড়ি করে কাঁদছিলেন জুলহাসের মা। জুলহাসের নিষ্পাপ শি’শু দুটি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়েছিল বাড়িভর্তি মানুষের মুখের দিকে। কোনো সান্ত্বনাই থামাতে পারছিল না বউ-শাশুড়ির কা’ন্না।

শনিবার সকালে মানিকগঞ্জে নি’হত পরিচ্ছন্নতা কর্মী জুলহাস হোসেনের পরিবারে এভাবেই আহাজারি চলছিল।

সকালে সাটুরিয়া উপজে’লার ভাসিয়ালি কান্দাপাড়া গ্রামে জুলহাসের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় মা ফজিরুন বেগম মাটিতে গড়াগড়ি করে বলছেন, না জানি কত ক’ষ্ট কই’রা আমা’র ছে’লেডা ম’রছে। আমি এর বিচার চাই। সবার ফাঁ’সি চাই। বউ-শাশুড়ির এমন আহাজারি দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি উপস্থিত নারী-পুরুষরা।

নি’হত জুলহাসের চাচাতো ভাই মিজানুর রহমান জানান, বাবা মা’রা যাওয়ার পর ছোট বেলা থেকেই সংসারের হাল ধরেন জুলহাস। বিধবা মা, স্ত্রী’ আর ১০ বছরের মে’য়ে এবং চার বছরের একটি ছে’লে রয়েছে তার। জুলহাস ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও তিন মাস আগে মানিকগঞ্জ আকিজ টেক্সটাইল মিলে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা বেতনে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ নেন। জুলহাসই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

তিনি আরো জানান, দুই চালা ছোট্ট একটি টিনের ঘর ছাড়া কোনো জায়গা জমি নেই জুলহাসের। কোনো মতে খেয়ে-পরে বেঁচে ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে জুলহাস মা’রা যাওয়ায় যেন অথৈ সাগরে পড়ল পুরো পরিবার। জুলহাসের মে’য়ে সাথী চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। এখন মে’য়েটিরও হয়তো লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে।

গত বুধবার রাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজে’লার জাগিরে আকিজ টেক্সটাইল মিলে দায়িত্বরত ছিলেন জুলহাস হোসেন। এ সময় চার সহকর্মী তার পায়ুপথে কম্প্রেসার মেশিন দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে দেয়। এতে পেট ফুলে গুরুতর অ’সুস্থ হয়ে পড়লে জুলহাসকে মানিকগঞ্জ জে’লা সদর হাসপাতাল নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতা’লে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে মৃ’ত্যু হয় তার। শুক্রবার জে’লা সদর হাসপাতা’লে ময়নাত’দন্ত শেষে জুলহাসের ম’রদেহ দাফন করা হয় গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে।

এ ঘটনায় জুলহাসের স্ত্রী’ জুলেখা বেগম বাদী হয়ে সদর থা’নায় হ’ত্যা মা’মলা করেছেন। এজাহার নামীয় চার আ’সামিকে গ্রে’ফতার করেছে পু’লিশ।

তারা হলেন সদর উপজে’লার কামা’রদিয়া গ্রামের সোহরাব আলীর ছে’লে মো. বিজয়, ঘিওর উপজে’লার ব’ন্যাপ্রসাদ গ্রামের মফিজুল ইস’লামের ছে’লে মো. সোহেল রানা, সাটুরিয়া উপজে’লার রাইল্যা দক্ষিণপাড়া গ্রামের লাল মিয়ার ছে’লে মো. লাবু এবং সদর উপজে’লার চান্দির চর গ্রামের মোগর আলীর ছে’লে সমির আলী। আ’সামিরা সবাই ওই কারখানার শ্রমিক।

মানিকগঞ্জের অ্যাডিশনাল এসপি (সদর সার্কেল) ভাস্কর সাহা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আ’সামিরা পায়ুপথে বাতাস দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের রি’মান্ড চাওয়া হয়েছে। রোববার আ’দালতে রি’মান্ড আবেদনের শুনানি হবে।

x