সেই রাতের রো’মহ’র্ষ’ক বর্ণনা দিলেন অভিনেত্রী শবনম পারভীন

ছোট ও বড় পর্দার কমেডি ও খল চরিত্রে অভিনয় করে বেশ জনপ্রিয় হয়েছেন শবনম পারভীন। এছাড়াও তিনি একজন পরিচালক এবং প্রযোজক। অনেকগুলো চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছেন এই অভিনেত্রী। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে তিনি নাতির বিপরীতে নানি চরিত্রে অ’ভিনয়ের জন্য জনপ্রিয়তা পান।

একবার শুটিং এর ফাঁ’কে নৃত্য পরি’চালক মাসুম বাবুল, আলেক জান্ডার বো, জায়েদ খান, জয় চৌধুরীসহ অনেকের সঙ্গেই চায়ের আড্ডা মেতেছিলেন তিনি।

সেই আড্ডা জমে উঠতে বেশি সময় লাগলো না। সেখানেই শবনম পারভীন তার জীবনের ভ’য়ংকর এক রাতের রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন।
শবনম পারভীন বলতে শুরু করলেন এভাবে, এটি ছিলো আমা’র জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অ’ভিজ্ঞতা। বাবার শরীরিক কিছু সমস্যা আছে। পরদিন সকালে চেকআপ করাতে হবে। বাবা ৯টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েন। সেদিনও ঘুমিয়েছেন। কিন্তু আমা’র ঘুম আসছিলো না। হঠাৎ একটা শব্দ কানে এলো। গুরুত্ব দিলাম না। চোখ প্রায় লেগে এসেছে।

কিছুক্ষণ পর আবার শব্দ হলো। চোখ মেলে দেখি আমা’র সামনে কয়েকজন দা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমা’র স্বামীকে ততক্ষণে বেঁধে ফেলেছে। পাশের রুমে আমা’র মে’য়েদেরও হাত-মুখ বেঁধে রেখেছে। প্রচণ্ড ভ’য় পেয়ে গেলাম! এদিকে বাবার রুম থেকে গোঙানির শব্দ পাচ্ছি। বুঝলাম বাবাকেও বেঁধে ফেলেছে।

শবনম পারভীন
আমি ডা’কাতদের সঙ্গে ঘুরছি আর বলছি- তোম’রা সব নিয়ে তাড়াতাড়ি আমাদের ছেড়ে দাও। কিন্তু ওরা আমা’র কথা পাত্তা দিচ্ছিল না। উল্টো ফ্রিজ থেকে দধি বের করে আয়েশ করে খাচ্ছিল।

উপস্থিত সবাই এ কথায় হেসে উঠলাম। শবনম পারভীনের প্রতিক্রিয়া ঠিক উল্টো। কণ্ঠ ধরে আসছে। নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, ‘আজ বিষয়টি হাসির মনে হলেও সেদিন আমি জীবনের মূল্যবান সম্পদ হারিয়েছি। ডা’কাতরা চলে যাওয়ার পর লক্ষ্য করলাম বাবা আর বেঁচে নেই। শ্বা’স আ’ট’কে বাবার মৃ’ত্যু হয়।

মৃ’ত্যুর আগে বাবা খুব ছটফট করেছিল। ডা’কাতের দল ভেবেছিল বাবা হয়তো চি’ৎকার করবে। তাই ওরা বাবার মুখ শক্ত করে বেঁধেছিল। অথচ বাবা শ্বা’স নিতে পারছিলেন না বলেই ছটফট করছিলেন।

হঠাৎ করেই কক্ষে পিনপতন নীরবতা নেমে এলো। এদিকে বৃষ্টিও কমে এসেছে। মন খারাপ করে ভাঙল আমাদের রাতের আড্ডা।

x