মিন্নির ফাঁ’সি নিয়ে যা বললেন রিফাতের বাবা

দেশজুড়ে আ’লোচিত রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আ’সামির মধ্যে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয় আ’সামির মৃ’ত্যুদ’ণ্ড দিয়েছেন আ’দালত। একই সঙ্গে মা’মলার চারজন আ’সামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরগুনা জে’লা ও দায়রা জজ আ’দালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান এই রায় দেন।

মৃ’ত্যুদ’ণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- নি’হত রিফাতের স্ত্রী’ আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বী আকন, মোহাইমিনুল ইস’লাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকট’ক হৃদয়, মো. হাসান।

এছাড়া মা’মলার অন্য আ’সামি- মো. মু’সা, রাফিউল ইস’লাম রাব্বী, মো. সাগর এবং কাম’রুল ইস’লাম সাইমুনকে খালাস দিয়েছেন আ’দালত।

এ দিকে, রায়ের ব্যাপারে নি’হত রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ জানান, আ’দালতের রায়ে সঠিক বিচার হয়েছে, কৃতজ্ঞতা জানাই।

অন্যদিকে, রায়ের ব্যাপারে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কি’শোর জানান, বিচার পাইনি, উচ্চ আ’দালতে যাব।

রায়ের বিষয়ে একই বক্তব্য আ’সামিপক্ষের আইনজীবীদের। তারাও মা’মলা’টিতে উচ্চ আ’দালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজ রোডের ক্যালিক্স একাডেমির সামনে স্ত্রী’ মিন্নির সামনে রিফাত শরীফকে কু‌‌’পিয়ে জ’খম করে নয়ন ব’ন্ড ও রিফাত ফরাজীর সহযোগীরা।

গুরুতর অবস্থায় রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতা’লে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাত মা’রা যান।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন ব’ন্ডকে প্রধান আ’সামি করে ১২ জনের নামোল্লেখসহ অ’জ্ঞাত আরও পাঁচ থেকে ছয়জনের বি’রুদ্ধে বরগুনা থা’নায় হ’ত্যা মা’মলা করেন।

এ মা’মলায় প্রথমে মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করেছিলেন নি’হত রিফাতের বাবা।

পরে ২ জুলাই ভোরে জে’লা সদরের বুড়িরচর ইউনিয়নের পুরাকা’টা ফেরিঘাট এলাকায় পু’লিশের সঙ্গে ‘ব’ন্দুকযু’দ্ধে’ প্রধান আ’সামি নয়ন ব’ন্ড (২৫) নি’হত হন।

প্রাথমিক অবস্থায় পু’লিশ বিষয়টি আমলে না নিলেও ফেসবুকে এই হ’ত্যাকা’ণ্ডের ভিডিও ভাই’রাল হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে বরগুনার পু’লিশ প্রশাসন। দেশব্যাপী ওঠে সমালোচনার ঝড়। এরপর চেকপোস্ট, কড়া নিরাপত্তা ও তল্লা’শিতে একে একে ধ’রা পড়ে অ’ভিযু’ক্তরা।

হ’ত্যাকা’ণ্ডের ২০ দিন পর গত বছরের ১৬ জুলাই মিন্নিকে তার বাবার বাসা থেকে বরগুনা পু’লিশ লাইনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এই হ’ত্যায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে মনে হওয়ায় ওইদিন রাতেই মিন্নিকে গ্রে’প্তার দেখায় পু’লিশ।

পরে গত বছরের ১৭ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আ’দালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রি’মান্ড আবেদন করে পু’লিশ। এরপর শুনানি শেষে আ’দালত মিন্নির পাঁচ দিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেন।

একপর্যায়ে গত বছরের ২০ জুলাই পাঁচদিনের রি’মান্ডের তৃতীয় দিন একই আ’দালতে রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ডে জ’ড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানব’ন্দি দেন মিন্নি। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক মোহাম্ম’দ সিরাজুল ইস’লাম গাজী।

পরবর্তীকালে ৪৯ দিন কারাভোগের পর গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলার শর্তে উচ্চ আ’দালতের নির্দেশে বরগুনার কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন মিন্নি। জামিনের পর থেকে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কি’শোরের জিম্মায় বাড়িতে ছিলেন তিনি।

চাঞ্চল্যকর এই হ’ত্যা মা’মলার ত’দন্তকারী সদর থা’নার কর্মক’র্তা ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি, ত’দন্ত) হু’মাউন কবির ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অ’ভিযু’ক্ত করে প্রাপ্ত ও অ’প্রাপ্তবয়স্ক; দুই ভাগে বিভক্ত করে আ’দালতে অ’ভিযোগপত্র জমা দেন। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অ’প্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন রয়েছেন। তবে মা’মলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আ’সামি মো. মু’সা এখনও পলাতক।

এ দিকে, গত ১ জানুয়ারি রিফাত হ’ত্যা মা’মলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আ’সামির বি’রুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনা জে’লা ও দায়রা জজ আ’দালত। পরে ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আ’সামির বি’রুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন আ’দালত। মোট ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে এ মা’মলায়।

আ’লোচিত এই মা’মলার প্রাপ্তবয়স্ক আ’সামিরা হলেন- রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বী আকন, মোহাইমিনুল ইস’লাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকট’ক হৃদয়, মো. হাসান, মো. মু’সা, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাফিউল ইস’লাম রাব্বী, মো. সাগর এবং কাম’রুল ইস’লাম সাইমুন।

x