শেষ বার্তায় মিন্নিকে যা বলেছিল নয়ন বন্ড

বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলা’র বাদী থেকে আ’সা’মি হয়ে যাওয়া আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনের ফাঁ’সি’র আদেশ দিয়েছেন আ’দা’লত। নানা কারণেই মিন্নি বরাবরই আলোচিত এবং সমালোচিত হয়েছেন।

১০ আ’সা’মির মধ্যে বাকি ৪ জন খালাস পেয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জেলা ও দায়রা জজ আ’দাল’তের বিচারক আসাদুজ্জামানের আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

বহুল আলোচিত এই হ’ত্যা মা’ম’লা নিয়ে নানা রকম তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে বেশিরভাগ তথ্য উঠে এসেছে মিন্নি, রিফাত ও নয়নের ফোন কল সূত্রে।

রিফাত শরীফ হ’ত্যা’কা’ণ্ডের আগে ও পরে মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্ডের কথোপকথনসহ মেসেজ আদান-প্রদানের তথ্য উদ্ধার করে পুলিশ।

বরগুনা জেলা পু’লি’শের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্যের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, মিন্নি একটি সিম ব্যবহার করতেন যেটি নয়ন বন্ডের দেয়া। সিমটি নয়ন বন্ডের মায়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করা।

পু’লি’শের দাবি, রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়নের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ওই সিমটি ব্যবহার করত মিন্নি।

হ’ত্যা’কা’ণ্ডের দিন সকাল ৯টা ৮ মিনিটে ওই নম্বর দিয়েই নয়ন বন্ডকে কল করে ৬ সেকেন্ড কথা বলেন মিন্নি। এসময় তাদের ৪০ সেকেন্ড কথা হয়।

হা’ম’লার পর বেলা ১১টা ৩১ মিনিটে নয়ন বন্ড মিন্নিকে একটি এসএমএস পাঠিয়েছিলেন। পরে রিফাত শরীফ মা’রা যাওয়ার পর বিকেল ৪টার কিছু সময় আগে নয়ন বন্ড মিন্নির কাছে আরেকটি এসএমএস পাঠিয়েছিলেন।

পাঠানো ওই এসএমএসটিতে লেখা ছিল, ‘আমারে আমার বাপেই জন্ম দেছে।’

মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেয়া ওই পু’লি’শ’ সদস্যের বরাতে গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, রিমান্ডে মিন্নির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিন্নি বলেছেন, রিফাত শরীফকে মা’রা’র পরিকল্পনার সময় মিন্নি নয়ন বন্ডকে বলেছিলেন, ‘তুমি যদি রিফাত শরীফকে মারতে পার, তাহলে বুঝব তোমারে তোমার বাপেই জন্ম দিছে।’

এদিকে এ মা’মলা’য় বুধবার ‘ফাঁ’সি’র আদেশ পেয়েছে রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

খালাস পেয়েছে মো. মুসা, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুন।

বুধবার সকালে ‌ক‌ঠোর নিরাপত্তার মধ্য দি‌য়ে বেলা ১১টা ৪০ মি‌নি‌টে কারাগার ‌থে‌কে আসামি‌দের আ’দা’ল‌তে আনা হয়। দুপুর ১টা ২০ মিনিটে বরগুনা জেলা দায়রা জজ আ’দা’লতের বিচারক এ রায় ঘোষণা শুরু করেন। এ সময় জামিনে থাকা আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি ও কারাগারে থাকা ৮ আসামি উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন বরগুনায় রিফাতকে কু’পি’য়ে আ’হ’ত করা হয়। গুরুতর আ’হ’ত অবস্থায় বরিশাল নেয়ার পর তিনি মা’রা যান। এ ঘটনায়ে দায়ের করা মা’মলা’র ১ নং সাক্ষী মিন্নি বর্তমানে আ’সা’মি হিসেবে কারাগারে রয়েছে।

x