বাতিলকৃত এইচএসসি পরীক্ষা মূল্যায়নের বিকল্প ভাবনা

বহিঃবিশ্বের দিকে খেয়াল করলে বর্তমান পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত খুব একটা খারাপ হয়নি। ইউরোপের বেশ কয়েকটা দেশ ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা চিন্তা করে ইতোমধ্যে তাদের পাবলিক পরীক্ষা বাদ দিয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে যে পদ্ধতিতে মূল্যায়নের কথা ভাবছে সরকার সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া হবে। তার মানে একজন শিক্ষার্থী এইচএসসিতে দুই বছর যা কিছু পড়েছে তার উপর কোনো পরীক্ষা না দিয়েই এইচএসসি এর ফলাফল পেতে যাচ্ছে। এইচএসসি এর সিলেবাসে অনেক কিছু পড়ানো হয়। যার সাথে জেএসসি কিংবা এসএসসি এর সিলেবাসের কোনো সামঞ্জস্য নেই।

বলা হয়ে থাকে যে, অনার্স চার বছরে একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে যা পড়ানো হয় তা সংক্ষিপ্ত আকারে থাকে গ্রুপ (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসা) ভিত্তিক বিষয়গুলোতে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, এইচএসসি এর পদার্থ বিজ্ঞানে যা একজন শিক্ষার্থী পড়ে সেই জিনিসই পদার্থ বিজ্ঞানে যারা অনার্স করে তারা চার বছর ধরে বিস্তারিতভাবে পড়ে। তাই একত্রে জেএসসি ও এসএসসি সিলেবাসকে এইচএসসি সিলেবাসের সমতুল্য ধরার কোনো মানে নাই।

বর্তমান সিদ্ধান্তের পরিবর্তে এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে ফলাফল দেওয়া যায় কিনা ভাবা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সকল কলেজ ছাত্রছাত্রীদের খাতা বোর্ডে জমা দিবে। তারপর বোর্ড ভিন্ন শিক্ষক দিয়ে খাতা মূল্যায়ন করে ফলাফল দিতে পারে। এর সাথে সাথে বোর্ড একটা মৌখিক পরীক্ষার আয়োজন করতে পারে অনলাইনে। মৌখিক পরীক্ষার পরীক্ষকও ভিন্ন কলেজ থেকে হতে হবে। সবশেষে বলতে চাই এইচএসসি তে শিক্ষার্থীরা যা অধ্যয়ন করেছে তার উপরই তাদের মূল্যায়ন হোক।

লেখক: প্রভাষক, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

x