বিরিয়ানির হাঁড়িতে লাল কাপড় মোড়ানো থাকে কেন

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় হোটেলে বিরিয়ানি রান্না করে তা বিক্রি করা হয়। তবে আপনি একটু খেয়াল করে দেখবেন যে প্রায় সব বিরিয়ানির হাঁড়ি লাল রঙের কাপড় দিয়ে মোড়ানো থাকে।

রাজধানী ঢাকায় যে কাউকে জিজ্ঞাসা করবেন তার পছন্দের খাবার কি, সেক্ষেত্রে ৯৯ শতাংশের উত্তর থাকবে বিরিয়ানি। ১ শতাংশ মুখে কিছু না বললেও অন্তরে ঠিকই বিরিয়ানির কথাই বলবে।

আপনারা যারা বিরিয়ানির ভক্ত, তারা কি কখনো একটি বিষয় খেয়াল করেছেন- বিরিয়ানির হাঁড়িতে লাল কাপড় পেঁচানো থাকে? কেন থাকে তা কী জানেন? হয়তো খেয়াল করেও বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাননি। আসুন তবে জেনে নেই লাল কাপড়ের রহস্য কী?

বিরিয়ানি আসলে মোগলাই খাবার। ভারতের দিল্লি এবং লক্ষ্মৌতে প্রথম প্রচলন শুরু হয়। এরপর মানুষের স্থান বদল ও বাংলার অঞ্চল মুঘলদের শাসনে আসার পর বিরিয়ানি আমাদের দেশেও প্রচলিত হয়েছে। আবার এই বিরিয়ানিকে নানা ভাবেও আমরা অদল বদল করে নিয়েছি। তবে নামটা ঠিক বিরিয়ানি থেকে গেছে। কিন্তু কথা হচ্ছে বিরিয়ানির হাঁড়ি লাল কাপড়ে পেঁচানো থাকে কেন?

মুঘল আমলের রীতি অনুযায়ী খাবার পরিবেশনে লাল কাপড় ব্যবহারের কারণে এখনো বিরিয়ানির হাঁড়িতে লাল কাপড় ব্যবহার করা হচ্ছে। সুতরাং বলা যায় আভিজাত্য বা ঐতিহ্য রক্ষার জন্যই বিরিয়ানির হাঁড়িতে লাল কাপড় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

মুখের ভাষার মতো রঙেরও ভাষা আছে। মানুষের চিন্তায় রঙ প্রভাব ফেলে। পৃথিবীর সব দেশেই রঙের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ ও ব্যবহার রয়েছে। লাল রঙের ব্যবহার একেক দেশে একেক রকম। বিদেশি অতিথি যখন আসেন তখন তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। মাজার, উরশ শরিফে বাঁশের মাথায় লালসালুর পতাকা ঝোলে। বিরিয়ানি, হালিমের হাঁড়িতে তেমন লাল কাপড়।

তবে এ ক্ষেত্রেও মতান্তর রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, ইতিহাস বা ঐতিহ্যের রীতি মেনে নয়, ব্যবসার খাতিরে ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই বিরিয়ানির পাত্র লাল কাপড়ে মুড়ে রাখা হয়। ফলে দূর থেকেই তা ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।

x