৩৩ বছর ধরে সাবান খেয়েই বেঁচে আছেন ময়মনসিংহের করিম !

আপনার পছন্দের খাবারের তালিকায় নিশ্চয় বিরিয়ানি, পোলাও, কোরমা কিংবা ভাত, রুটি, সবজি, ডাল, ফলমূল আরও কত কী?তবে জানেন কি এমনও কেউ আছে যে কিনা কাপড় কাঁচা বা গায়ে মাখা সাবান নিয়মিত খাচ্ছেন!

হ্যাঁ, ঠিক শুনেছেন!এমনই কাণ্ড ৩৩ বছর ধরে ঘটিয়ে আসছেন এক ব্যক্তি। ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার দত্তপুর গ্রামের আবদুল করিম সাবান খাচ্ছেন ৩৩ বছর ধরে।

এই ব্যক্তি ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন।তার খাদ্যের তালিকায় প্রতিদিনের জন্য চাই সাতটা করে সাবান!

ভাবতেই অবাক লাগে, মানুষ যেখানে সাবানের ফেনা মুখে গেলেই কম করে হলেও দুই, তিন বার মুখে পানি ঢেলে মুখ পরিষ্কার করে সেখানে আবদুল করিম সাবান খাচ্ছেন নিয়মিত।

গোসল করার সময় সাবানের গন্ধ ভালো লাগায় তার সাবান খাওয়ার যাত্রা শুরু হয়।

প্রথম প্রথম গোসলের সময় সাবানের ফেনা খেতেন। তারপর একদিন নিজের ইচ্ছায় মনের উপর জোর করে তার সাবান খাওয়া।

সাবান খেয়ে সেদিন ভালো লাগায় আর অন্য কোনো খাবার নয়। প্রতিদিন বেড়েই চলে তার সাবানের সংখ্যা। আগে অর্ধেকটা সাবান হলেই চলে যেত, এখন দিনে লাগে সাতটা।

তবে সব সাবান তিনি খান না।আবদুল করিমের কানুরামপুর বাসস্ট্যান্ডে ছোট একটি খাবারের দোকান আছে। ওই দোকানে বসেই সাবান খান তিনি।

তবে তিনি সাবান খান গোসল করার আগে।সাবান খাওয়ার এই দৃশ্য দেখে অনেকেই অবাক হয়ে যান। দীর্ঘদিন ধরেই করিম সাবান খান তা এলাকার সবাই জানে আর এর ফলে আবদুল করিম সবার কাছে অতি পরিচিত।

পাশের চা বিক্রেতা নূরজাহান বলেন, ঘটনাটি নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না। তবে তার এ ধরনের সাহসের জন্য তাকে পুরষ্কৃত করা উচিত।

আবদুল করিমের ২ ছেলে আল-মামুন, আল-মাসুদ এবং এক মেয়ের নাম শাহানা।তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের বাবার বাড়ি জামালপুরে।

বেশ কিছুদিন আবদুল করিম সেখানেই ছিলেন। এখন নিজ এলাকায় খাবারের একটি ছোট্ট দোকান দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।আবদুল করিমের স্ত্রী আনোয়ারা বলেন, প্রথম প্রথম বিপদ হবে এই আশঙ্কায় সাবান না খাওয়ার জন্য বলতাম।

ডাক্তারও তাকে সাবান খেতে নিষেধ করেছিল কিন্তু কার নিষেধ কে শোনে!তিনি সাবান খাওয়া বন্ধ করেননি। আর এই সাবান খাওয়া যতদিন বাঁচবেন চালিয়ে যাবেন।

এখন এটি তার সয়ে গেছে।আবদুল করিম বলেন, সাবান না খেলে ভালা লাগে না। পায়খানাও পরিষ্কার হয় না। মোট কথা শান্তি পাই না। সকাল-সন্ধ্যায় এলাইফবয়সহ বিভিন্ন সাবান খান তিনি। সাবান না হলে তার একদম চলে না।

x