শাওন-চঞ্চলের গান নিয়ে বিতর্ক— যা বললেন চঞ্চল চৌধুরী

জনপ্রিয় তারকা অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও মেহের আফরোজ শাওনের কণ্ঠে ‘সর্বত মঙ্গল রাধে’ গানটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

গানটি গেয়ে প্রশংসিত হলেও সমালোচনা শুনতে হয়েছে বিভিন্ন মহলে। গানটির মেধাস্বত্ব নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ। আলোচিত এই গানটি ব্যান্ড ‘সরলপুর’র অভিযোগ গানটি তাদের।

তাদের দাবি, গানটি তাদের একটি আনরিলিজ ট্র্যাক। কিন্তু চঞ্চল-শাওনের কণ্ঠে গানটি পরিবেশনের সময় সংগৃহীত গান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সরলপুরের ক্রেডিট দেয়া হয়নি। অনুমতিও নেয়া হয়নি ব্যান্ডদলটি থেকে। এমন দাবি ও বিতর্কের মধ্যেই কপিরাইট ইস্যুতে গানটি সরিয়ে নেয় ইউটিউব।

অবশেষে এ বিষয়ে মুখ খুললেন ‘সর্বত মঙ্গল রাধে’ গানে কণ্ঠ দেয়া অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী।

গণমাধ্যমকে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘আমি ও শাওন শুধু গানটি গেয়েছি। এই গানের মালিক আমরা নই। গানটির মেধাস্বত্ব দাবি করেছে সরলপুর ব্যান্ড।

তাদের কথায় যতটুকু জানতে পেরেছি, ২০০৮ সালে বকশীগঞ্জের এক সাধুর কাছ থেকে তারা গানটির ৩০ শতাংশ পেয়েছে। আর বাকি ৭০ শতাংশ তারা নিজেরা লিখেছে।

আমার প্রশ্ন? একটি প্রচলিত গানের সঙ্গে যদি নিজেদের কথা যুক্ত করা হয়, তাহলে কি পুরো গানটি তাদের হয়ে যায়? ১০০ ভাগ মৌলিক না হলে কি নিজেদের বলে দাবি করা যায়?’

গণমাধ্যমকে দেয়া বক্তব্যে নানা বিশ্লেষণ উপস্থাপন ‘আয়নাবাজি’খ্যাত এই অভিনেতা সরলপুর ব্যান্ডদলের কাছে জানতে চেয়েছেন, কপিরাইট আইনের ব্যাখ্যা কী?

তার মতে, যে আইনে তাদের দোষ দেয়া হচ্ছে ওই একই আইনে সরলপুর ব্যান্ডদলও দোষী। কারণ গানটি সরলপুর ব্যান্ডের মৌলিক সৃষ্টি নয়।

এটি বহু বছর আগের প্রচলিত একটি গান। সরলপুরের গানটির বেশিরভাগই লাইন মধ্যযুগের কবি দ্বিজ কানাইয়ের লেখা মৈমনসিংহ গীতিকার মহুয়া গানের পদের মতো।

চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘পুরো ঘটনাটিতে আমি খুব অবাক হয়েছি। ‘সর্বত মঙ্গল রাধে’ গানটিকে আমরা সবাই প্রচলিত গান বলেই জানতাম।

বহু বছর আগে সাধকেরা রাধাকৃষ্ণের প্রেম নিয়ে পালা-পুঁথি লিখতেন, নানা পদ রচনা করতেন। এই গান সেখান থেকেই সৃষ্ট। আর এমন প্রচলিত গানের জন্য অনুমতি লাগবে সেটা কেউ ভাবেনি। তাছাড়া আমরাই প্রথম নই। ইউটিউবেও এই গানের অনেকগুলো ভার্সন দেখা যাচ্ছে।

কোথাও কোনো ব্যান্ডের নাম ক্রেডিট হিসেবে দেয়া নেই। যদি জানা যেত গানটির মালিক সরলপুর ব্যান্ড তাহলে আইপিডিসি বা পার্থ বড়ুয়া অবশ্যই তাদের অনুমতি নিত।’

এমন ধরনের প্রচলিত ফোক গান নতুন করে রেকর্ড করলেই নিজের হয়ে যায় না বলেও জানান চঞ্চল।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আমিও বেশ কিছু গান গেয়েছি। যার সবই প্রচলিত ফোক গান। যেমন ‘বকুল ফুল বকুল ফুল’

গানটি সর্বপ্রথম আমার কণ্ঠেই রেকর্ড হয়েছে। এরপর এর জনপ্রিয়তা দেখে জলের গান গেয়েছে, দিনাত জাহান মুন্নী গেয়েছেন। এখন আমি কি বলব- যে এই গান তারা আমার অনুমতি ছাড়া কেন গাইল? আমি এই গানের মালিক? বা আমি এই গানের কপিরাইট আমার নামে করে নেব?

একইভাবে ‘ফুল গাছটি লাগাইছিলাম ধুলা মাটি দিয়া রে’ ও ‘মনপুরা’ ছবিতে ব্যবহৃত ‘নিথুয়া পাথারে’ গানটির কথা জানান চঞ্চল ।

তিনি বলেন, প্রথমটি পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুরা অঞ্চলের গান। আমি গাওয়ার পর যা খুব জনপ্রিয়তা পায়। অনেকেই মনে করেন , এটা আমার গান। তাই বলে এটা তো আমার হয়ে গেল না। এর পদ রচনাকারী আমি নই।‘নিথুয়া পাথারে’ গানটিও নিজের বলে দাবি করেননি গিয়াসউদ্দিন সেলিম ভাই। এটাও সংগৃহিত গান হিসেবে পরিচিত।